অর্থগতভাবে শব্দসমূহ কয় ভাগে বিভক্ত?

Updated: 8 months ago
  • দুই ভাগে
  • তিন ভাগে
  • চার ভাগে
  • পাঁচ ভাগে
758
ব্যাখ্যাঃ

অর্থগতভাবে শব্দসমূহ প্রধানত তিন ভাগে বিভক্ত। এগুলো হলো:

  1. যৌগিক শব্দ: যে সকল শব্দের ব্যুৎপত্তিগত অর্থ (শব্দ তৈরি হওয়ার সময়কার অর্থ) এবং ব্যবহারিক অর্থ (বর্তমানে যে অর্থে ব্যবহৃত হয়) একই থাকে, তাদের যৌগিক শব্দ বলে। যেমন:
    • ‘গায়ক’ (গৈ + অক) = যে গান করে।
    • ‘কর্তব্য’ (কৃ + তব্য) = যা করা উচিত।
    • ‘দয়াবান’ (দয়া + বান) = দয়া আছে যার।
    • ‘মধুর’ (মধু + র) = মধুর মতো মিষ্টি।
  2. রূঢ় বা রূঢ়ি শব্দ: যে সকল শব্দ প্রত্যয় বা উপসর্গ যোগে গঠিত হয়ে মূল অর্থ থেকে ভিন্ন বা সীমাবদ্ধ অর্থ প্রকাশ করে, তাদের রূঢ় বা রূঢ়ি শব্দ বলে। এই শব্দগুলোর ব্যুৎপত্তিগত অর্থ থাকলেও তা ব্যবহারিক অর্থে সাধারণত ব্যবহৃত হয় না। যেমন:
    • ‘হস্তি’ (হস + তিন্) = যার হস্ত বা শুঁড় আছে (সাধারণত হাতি বোঝায়, শুধু শুঁড় থাকলেই হস্তি নয়)।
    • ‘সন্দেশ’ (সম্ + √দিশ্ + অ) = সংবাদ (কিন্তু বর্তমানে এটি এক প্রকার মিষ্টি বোঝায়)।
    • ‘তৈল’ (তিল + অ) = তিল থেকে উৎপন্ন স্নেহ পদার্থ (কিন্তু বর্তমানে যেকোনো তেল বোঝায়)।
    • ‘বাঁশি’ (বাঁশ + ই) = বাঁশ দিয়ে তৈরি বাদ্যযন্ত্র।
  3. যোগরূঢ় শব্দ: সমাসবদ্ধ যে সকল শব্দ তার সমস্যমান পদসমূহের অর্থ সম্পূর্ণরূপে না বুঝিয়ে একটি বিশেষ অর্থ প্রকাশ করে, তাদের যোগরূঢ় শব্দ বলে। এখানে সমাসের অর্থের প্রাধান্য থাকে না, বরং একটি বিশেষ অর্থের প্রতি ইঙ্গিত করে। যেমন:
    • ‘পঙ্কজ’ (পঙ্কে জন্মে যা — উপপদ তৎপুরুষ সমাস) = শৈবাল, শালুক, কলমি ফুল ইত্যাদি অনেক কিছু পঙ্কে জন্মায়। কিন্তু ‘পঙ্কজ’ বলতে বিশেষভাবে ‘পদ্মফুল’ বোঝায়।
    • ‘রাজপুত’ (রাজার পুত্র) = সাধারণত একটি বিশেষ জাতি বা গোষ্ঠীকে বোঝায়।
    • ‘জলধি’ (জল ধারণ করে যা) = সাগর বা সমুদ্র বোঝায়।
    • ‘মহাযাত্রা’ (মহা যে যাত্রা) = সাধারণত মৃত্যু বা পরলোকগমন বোঝায়।
Satt AI
Satt AI
1 week ago

বাংলা শব্দভাণ্ডারকে বিভিন্ন বিবেচনায় ভাগ করা যায়: ক. উৎস বিবেচনা, খ. গঠন বিবেচনা, গ. পদ বিবেচনা।

ক. উৎস বিবেচনায় শব্দের শ্রেণিবিভাগ

উৎস বিবেচনায় বাংলা শব্দভান্ডারকে চার শ্রেণিতে বিভক্ত করা যায়: তৎসম, তদ্ভব, দেশি ও বিদেশি। এর মধ্যে তৎসম ও তদ্ভব শ্রেণিকে নিজস্ব উৎসের এবং দেশি ও বিদেশি শ্রেণিকে আগন্তুক উৎসের শব্দ হিসেবে গণ্য করা হয়।

১. তৎসম শব্দ: প্রাচীন ভারতীয় আর্যভাষা থেকে বিবর্তিত যেসব বাংলা শব্দের লিখিত চেহারা সংস্কৃত ভাষার শব্দের অনুরূপ সেগুলোকে তৎসম শব্দ বলে। যথা: পৃথিবী, আকাশ, গ্রহ, বৃক্ষ। সংস্কৃত ব্যাকরণ অনুসরণ করে গঠিত পারিভাষিক শব্দকেও তৎসম শব্দ বলা হয়। যথা: অধ্যাদেশ, গণপ্রজাতন্ত্রী, মহাপরিচালক, সচিবালয় ইত্যাদি।

২. তদ্ভব শব্দ: প্রাচীন ভারতীয় আর্যভাষা থেকে বিবর্তিত যেসব শব্দ বাংলা ভাষায় একেবারেই স্বতন্ত্র, সেগুলোকে তদ্ভব শব্দ বলা হয়। উদাহরণ: হাত, পা, কান, নাক, জিভ, দাঁত; হাতি, ঘোড়া, সাপ, পাখি, কুমির ইত্যাদি।

৩. দেশি শব্দ: বাংলা অঞ্চলের আদিবাসী জনগোষ্ঠীর ভাষা থেকে কিছু শব্দ বাংলা ভাষায় স্থান পেয়েছে, এগুলোকে দেশি শব্দ বলা হয়। উদাহরণ: কুড়ি, পেট, চুলা, কুলা, ডাব, টোপর, ঢেঁকি ইত্যাদি।

৪. বিদেশি শব্দ: ঐতিহাসিক কারণে বাংলাদেশের সঙ্গে বিভিন্ন দেশের আন্তঃসম্পর্ক তৈরি হওয়ায় সেসব দেশের বহু শব্দ বাংলা ভাষায় স্থান করে নিয়েছে, এই শব্দগুলোকে বিদেশি শব্দ বলে। এসব বিদেশি শব্দের মধ্যে রয়েছে আরবি, ফারসি, ইংরেজি, পর্তুগিজ, ফরাসি, ওলন্দাজ, তুর্কি, হিন্দি ইত্যাদি।

উদাহরণ -

আরবি: আল্লাহ, হারাম, হালাল, হজ, জাকাত, ঈদ, উকিল, কলম, নগদ, বাকি, আদালত, তারিখ, হালুয়া ইত্যাদি। 

ফারসি: খোদা, দোজখ, নামাজ, রোজা, চশমা, তোশক, দোকান, কারখানা, আমদানি, জানোয়ার ইত্যাদি। 

ইংরেজি: চেয়ার, টেবিল, কলেজ, স্কুল, পেনসিল, ব্যাগ, ফুটবল, ক্রিকেট, হাসপাতাল, বাক্স, বোতল ইত্যাদি। 

পর্তুগিজ: আনারস, আলপিন, আলমারি, গির্জা, গুদাম, চাবি, পাউরুটি, পাদরি, বালতি ইত্যাদি। 

ফরাসি: কুপন, ডিপো, রেস্তোরাঁ, আঁতেল, কার্তুজ ইত্যাদি। ওলন্দাজ: হরতন, ইস্কাপন, রুইতন, টেক্কা, তুরুপ ইত্যাদি।

তুর্কি: চাকর, চাকু, তোপ, দারোগা ইত্যাদি। হিন্দি: পানি, ধোলাই, লাগাতার, সমঝোতা।

 

খ. গঠন বিবেচনায় শব্দের শ্রেণিবিভাগ

গঠন বিবেচনায় বাংলা শব্দকে মৌলিক এবং সাধিত এই দুই ভাগে ভাগ করা যায়। 

১. মৌলিক শব্দ: যেসব শব্দ বিশ্লেষণ করলে অর্থপূর্ণ কোনো অংশ থাকে না, সেগুলোকে মৌলিক শব্দ বলে। যেমন গাছ, পাখি, ফুল, হাত, গোলাপ ইত্যাদি। 

২. সাধিত শব্দ: যেসব শব্দকে বিশ্লেষণ করলে তার মধ্যে এক বা একাধিক অর্থপূর্ণ অংশ থাকে, সেগুলোকে সাধিত শব্দ বলে। উপসর্গ বা প্রত্যয় যোগ করে অথবা সমাস প্রক্রিয়ায় সাধিত শব্দ তৈরি হয়। যেমন পরিচালক, গরমিল, সম্পাদকীয়, সংসদ সদস্য, নীলাকাশ ইত্যাদি। শব্দের দ্বিত্ব করেও সাধিত শব্দ হয়ে থাকে। যেমন ফিসফিস, ধুমাধুম ইত্যাদি।

 

গ. পদ বিবেচনায় শব্দের শ্রেণিবিভাগ

শব্দ যখন বাক্যে ব্যবহৃত হয়, তখন তার নাম হয় পদ। বাক্যের অন্তর্গত এসব শব্দ বা পদকে মোট আটটি শ্রেণিতে ভাগ করে বর্ণনা করা যায়: ১. বিশেষ্য, ২. সর্বনাম, ৩. বিশেষণ, ৪. ক্রিয়া, ৫. ক্রিয়াবিশেষণ, ৬. অনুসর্গ, ৭. যোজক ও ৮. আবেগ।

বাক্যে প্রয়োগের উপরে শব্দশ্রেণির এই আট রকম বিভাজন চূড়ান্ত হয়ে থাকে। যেমন, যখন বলা হয়: 'লাল থেকে নীল ভালো, তখন 'লাল' এটি বিশেষ্য পদ। কিন্তু যখন বলা হয়: আমি একটি লাল ফুল তুলেছি- তখন 'লাল' বিশেষণ পদ।

পদ বিবেচনায় শব্দের এসব শ্রেণিভেদ নিয়ে পরবর্তী পরিচ্ছেদগুলোতে আলোচনা করা হলো।

Related Question

View All
Updated: 1 year ago
  • নগদ
  • দোকান
  • বোতল
  • পাদরি
428
Updated: 1 year ago
  • পর্তুগিজ
  • ইংরেজি
  • ফারসি
  • ফরাসি
423
Updated: 3 months ago
  • নামাজ
  • রোজা
  • দোজখ
  • জাকাত
486
শিক্ষকদের জন্য বিশেষভাবে তৈরি

১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!

শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!

প্রশ্ন এডিট করা যাবে
জলছাপ দেয়া যাবে
ঠিকানা যুক্ত করা যাবে
Logo, Motto যুক্ত হবে
অটো প্রতিষ্ঠানের নাম
অটো সময়, পূর্ণমান
প্রশ্ন এডিট করা যাবে
জলছাপ দেয়া যাবে
ঠিকানা যুক্ত করা যাবে
Logo, Motto যুক্ত হবে
অটো প্রতিষ্ঠানের নাম
অটো সময়, পূর্ণমান
অটো নির্দেশনা (এডিটযোগ্য)
অটো বিষয় ও অধ্যায়
OMR সংযুক্ত করা যাবে
ফন্ট, কলাম, ডিভাইডার
প্রশ্ন/অপশন স্টাইল পরিবর্তন
সেট কোড, বিষয় কোড
অটো নির্দেশনা (এডিটযোগ্য)
অটো বিষয় ও অধ্যায়
OMR সংযুক্ত করা যাবে
ফন্ট, কলাম, ডিভাইডার
প্রশ্ন/অপশন স্টাইল পরিবর্তন
সেট কোড, বিষয় কোড
এখনই শুরু করুন ডেমো দেখুন
৫০,০০০+
শিক্ষক
৩০ লক্ষ+
প্রশ্নপত্র
মাত্র ১৫ পয়সায় প্রশ্নপত্র
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন তৈরি করুন আজই

Complete Exam
Preparation

Learn, practice, analyse and improve

1M+ downloads
4.6 · 8k+ Reviews

Question Analytics

মোট উত্তরদাতা

জন

সঠিক
ভুল
উত্তর নেই